বার বার ঘটনা পথ দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রন করতে নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করল জেলা প্রশাসন।উত্তর দিনাজপুর জেলার জাতীয় সড়কের নির্দিষ্ট কয়েকটি অংশে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রন করল জেলা প্রশাসন। জেলা শাসক আয়েষা রানী ২৬ মে এই মর্মে একটি সরকারি নোটিফিকেশন জারি করেছেন। পুলিশ প্রশাসনের অনুরোধ মেনেই এই নোটিফিকেশন জারি করা হয়েছে বলে জানান জেলা শাসক। আগামী একমাস এই নোটিফিকেশন অনুযায়ী এই জেলায় জাতীয় সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল করবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। এই নিয়ম লঙ্ঘন করলে ট্রাফিক আইন অনুযায়ী পুলিশ ব্যবস্থা গ্রহন করবে। তবে জাতীয় সড়ক কতৃপক্ষ এই ব্যাপারে সম্পূর্ন অন্ধকারে রয়েছে।
জেলা পুলিশসূত্রে জানা গিয়েছে। উত্তর দিনাজপুর জেলায় ৩৪ ও ৩১ নম্বর মিলিয়ে মোট প্রায় ১৯০ কিলোমিটার জাতীয় সড়ক রয়েছে। এই জাতীয় সড়কের দুইপাস ধরে রায়গঞ্জ, ডালখোলা, করনদিঘী, ইটাহার, কিষানগঞ্জ, ইসলামপুর, চোপড়া ইত্যাদি শহর গড়ে উঠেছে। ওই শহরগুলির বাজার, অফিস থেকে শুরু করে একাধিক স্কুল জাতীয় সড়কের দুইপাশেই রয়েছে। বিকল্প রাস্তা না থাকায় জাতীয় সড়কে নিত্যদিন ছোট বড় পথ দুর্ঘটনা ঘটেই রয়েছে। পুলিশের পরিসংখ্যান থেকে জানা গিয়েছে চলতি বছরে জানুয়ারিতে ৪৪ টি, ফ্রেব্রুয়ারীতে ৪২ টি সহ এই পর্যন্ত এই জেলায় জাতীয় সড়কে ছোটবড় মিলিয়ে ২০০ টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে ট্রাফিক সচেতনতার ব্যাপারে লাগাতার অভিযান চালানো হয়েছে। কিন্তু জাতীয় সড়কে দুর্ঘটনা কমানো যায়নি। শেষে পুলিশ প্রশাসন দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে জাতীয় সড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রন করার জন্য ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করে জেলা প্রশাসনের কাছে চিঠি দেয়।
২৬ মে জেলা শাসক আয়েষারানী এ জাতীয় সড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রনের ব্যাপারে একটি লিখিত নোটিফিকেশন জারি করেন। ওই নোটিফিকেশন থেকে জানা গিয়েছে জেলায় ৩১ ও ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক ও রাজ্য সড়ক মিলিয়ে মোট ৮ টি অংশের ৮৪ কিলোমিটার রাস্তাকে দুর্ঘটনা প্রবন বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। এরমধ্যে রায়গঞ্জের রুপাহার থেকে নাগর সেতু পর্যন্ত ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের ২২ কিলোমিটার অংশে ছোট যাত্রীবাহী ও পন্যবাহী গাড়ি ঘন্টায় ৫০ কিলোমিটার, যাত্রীবাহী বাস ও বড় ট্রাক ঘন্টায় ৩৫ কিলোমিটার, যাত্রীবাহী ট্রেকার ঘন্টায় ৪০ কিলোমিটার এবং মোটরবাইক সর্ব্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারবে। এর পাশাপাশি ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের উপড় গুঞ্জুরিয়া নাজার এলাকার ১ কিলোমিটার, অলিগঞ্জ থেকে ইসলামপুর শহরের উপড় দিয়ে শ্রীকৃষ্ণপুর পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার অংশ এবং মাদারিপুর থেকে কোলতাহার পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার অংশকে দুর্ঘটনা প্রবন চিহ্নিত করে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রন করা হয়েছে। এছাড়া রাজ্য সড়কেও শিলিগুড়ি মোড় থেকে হেমতাবাদ ১০ কিলোমিটার, বোতলবাড়ি থেকে ১৬ কিলোমিটার এবং বিপ্রিত মোড় থেকে ধনতলা পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার অংশে যানবাহনের গতি ওই একইভাবে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। ২৩ জুন পর্যন্ত এই নোটিফিকেশন কার্জকর থাকবে।
জেলা শাসক আয়েষারানী জানিয়েছেন, দুর্ঘটনা কমাতে এই নিয়ম লাগু করা হয়েছে। প্রয়জনে এর মেয়াদ আরও বাড়ানো হতে পারে।
পুলিশ সুপার অমিত কুমার ভরত রাঠোর জানিয়েছেন, চিহ্নিত করা রাস্তার অংশগুলিতে সাইনবোর্ড লাগিয়ে যানবাহনের চালকদের সতর্ক করে দেওয়া হবে। ওই অংশগুলিতে ২৪ ঘন্টা নজরদারীর জন্য পুলিশের টহলদারি রাখা হবে। কেউ নিয়ম ভাঙলে ট্রাফিক অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জাতীয় সড়ক কতৃপক্ষের মালদা ডিভিশনের প্রোজেক্ট ডাইরেক্টর ডি কে হানসারি জানিয়েছেন, জাতীয় সড়কে কোনও নিয়ম লাগু করতে হলে আমাদের তা জানিয়ে করতে হয়। এই ব্যাপারে আমরা কিছু জানি না। বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি।